০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার সংরক্ষিত নারী আসনে লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৫ Time View

গাইবান্ধার সংরক্ষিত নারী আসনে লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধা জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মোছা. দেওয়ান মাহামুদ লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ। সাঘাটা উপজেলার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে লিটার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা ছয়টি মামলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ করেছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি ৪২ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে একই ঘটনার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আরও দুটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং এ কারণে তিনি আরও ৬৩ দিন কারাভোগ করেন।

২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে ফেনীর লালপোল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি প্রায় ১৮৬ দিন কারাভোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া একই বছরের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা আরেকটি আইসিটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৯৮ দিন কারাভোগ করেন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় তিনি আরও ৭৪ দিন কারাভোগ করেন।

শিক্ষাগত জীবনে দেওয়ান মাহামুদ লিটা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী জানান, দলের দুঃসময়ে লিটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে তাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দেওয়ান মাহামুদ লিটা বলেন, গাইবান্ধা তাঁর স্বামীর বাড়ি হলেও এখানকার মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আমি সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। সুযোগ পেলে গাইবান্ধার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

তবে স্থানীয় পর্যায়ে তার মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গাইবান্ধার সংরক্ষিত নারী আসনে লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা

Update Time : ০৪:১৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার সংরক্ষিত নারী আসনে লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধা জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মোছা. দেওয়ান মাহামুদ লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ। সাঘাটা উপজেলার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে লিটার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা ছয়টি মামলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ করেছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি ৪২ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে একই ঘটনার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আরও দুটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং এ কারণে তিনি আরও ৬৩ দিন কারাভোগ করেন।

২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে ফেনীর লালপোল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি প্রায় ১৮৬ দিন কারাভোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া একই বছরের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা আরেকটি আইসিটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৯৮ দিন কারাভোগ করেন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় তিনি আরও ৭৪ দিন কারাভোগ করেন।

শিক্ষাগত জীবনে দেওয়ান মাহামুদ লিটা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী জানান, দলের দুঃসময়ে লিটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে তাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দেওয়ান মাহামুদ লিটা বলেন, গাইবান্ধা তাঁর স্বামীর বাড়ি হলেও এখানকার মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আমি সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। সুযোগ পেলে গাইবান্ধার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

তবে স্থানীয় পর্যায়ে তার মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।