চাঁদাবাজি বন্ধে টুরিস্ট পুলিশের খোলা চিঠি
- Update Time : ০৭:০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৩ Time View

চাঁদাবাজি বন্ধে টুরিস্ট পুলিশের খোলা চিঠি
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
সরকার আসে, সরকার যায়—কিন্তু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য যেন থামে না। তবে এবার চাঁদাবাজি রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন জোনের প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল, কটেজ ও রিসোর্টে একটি খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে টুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করতে হবে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি ও রিজিয়ন প্রধান আপেল মাহমুদ। তিনি তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করেছেন, যাতে ভুক্তভোগীরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চিঠিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতা রাসেদ মুহাম্মদ আলী ফেসবুকে লিখেছেন, রমজান মাসে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে টুরিস্ট পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন, পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা বরাবরই প্রশংসনীয়। তারা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হোটেল-মোটেল জোনে চাঁদাবাজি নতুন কোনো বিষয় নয়—দলীয় মিছিল-মিটিংকে কেন্দ্র করে অতীতে বাড়তি অর্থ দিতে হতো। পুরনো চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য এখন কমলেও ৫ আগস্টের পর কিছু নতুন মুখ দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমানে তারাও গা-ঢাকা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কক্সবাজার সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এবং টুরিস্ট পুলিশ প্রধানের পৃথক ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে। এমপি কাজল তার ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছেন—তার নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে; সাহসিকতার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, টুরিস্ট জোনে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। যে দলের বা মতেরই হোক, অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে—অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে এমন উদ্যোগ ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















