পঞ্চগড়ে ভুল পরিকল্পনা ও অনিয়মের বলি গ্রামীণ রাস্তা, কাজ শেষ হওয়ার আগেই হেলে পড়েছে গাইড ওয়াল,
- Update Time : ০৮:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / ৪ Time View

পঞ্চগড়ে ভুল পরিকল্পনা ও অনিয়মের বলি গ্রামীণ রাস্তা, কাজ শেষ হওয়ার আগেই হেলে পড়েছে গাইড ওয়াল,
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নং অমরখানা ইউনিয়নে একটি গ্রামীণ রাস্তা পাকাকরণ কাজে চরম অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই নবনির্মিত গাইড ওয়াল ধসে পড়ার পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণের পুরনো গাছ টেন্ডার ছাড়াই কেটে ফেলায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (GDDRIDP) এর আওতায় গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠুটাপাখুরি-কাজিরহাট দাতারাম পাড়া মধু পাড়া ভায়া ১৩০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ১ হাজার ৩৮৬ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাজ শুরুর অল্প দিনের মধ্যেই রাস্তার ধারের নবনির্মিত গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং দায়সারা পরিকল্পনার কারণেই কোটি টাকার এই প্রকল্পের এমন বেহাল দশা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাজ শুরু হতে না হতেই যদি গাইড ওয়াল ধসে পড়ে, তবে এই রাস্তা কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।”
রাস্তা নির্মাণের নামে স্থানীয় একটি স্কুল প্রাঙ্গণে থাকা বহু বছরের পুরোনো দুটি গাছ কোনো রকম টেন্ডার বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কেটে ফেলায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সরকারি নিয়ম অমান্য করে এভাবে গাছ কাটাকে ‘লুটতরাজ’ হিসেবে দেখছেন তারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদারকির দায়িত্বে থাকা রবি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, গাইড ওয়ালটি যে টিকবে না তা মিস্ত্রি আগেই সতর্ক করেছিলেন। রবির ভাষ্যমতে, “মিস্ত্রি বলছিল এটা তো থাকবে না স্যার, তখন ইঞ্জিনিয়ার বলেন দেখেন মাটি-টাটি ফেলে কাজটা করা যায় কি না।” অর্থাৎ, ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কনস্ট্রাকশনের ইউসুফ আলী বলেন, ওটা থাকবেনা,আমি অফিসকে জানাইছি ৩০, ৩৫ মিটার রাস্তা করা যাবেনা,পুকুর বাদ দিয়ে আমি এদিকে করতেছি।
এলজিইডির সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণ চন্দ্র দায় চাপিয়েছেন নকশার ওপর। তিনি জানান, বর্ষার সময় ডিজাইন করার কারণে পুকুরের গভীরতা সঠিকভাবে বোঝা যায়নি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, “রাস্তার পাশে যখন পুকুর খনন করা হয় তখন কেউ দেখে না, কিন্তু আমরা কাজ করতে গেলেই সব দোষ ধরা হয়।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে ওই ৫০ ফিট অংশের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আর কোনো কাজ হবে না।





















