০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মরুভূমিতেই নিভলো প্রাণ: প্রবাসীর লাশ ফেরাতে রৌমারীবাসীর মিনতি”

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯ Time View

মরুভূমিতেই নিভলো প্রাণ: প্রবাসীর লাশ ফেরাতে রৌমারীবাসীর মিনতি”
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনবেন—এই স্বপ্ন নিয়েই মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পুড়ার চরের যুবক আব্দুল হাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ কফিনে বন্দি। গত রাতে সৌদি আরবে নিজ কর্মস্থলে ঘুমের ঘোরেই না-ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।
স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর খবরে পুড়ার চর গ্রামে এখন শোকের মাতম। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। একদিকে আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ শেষ, অন্যদিকে নবায়ন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। বৈধ কাগজপত্রের অভাবে যেকোনো সময় ধরা পড়ার ভয় আর বাড়িতে থাকা বৃদ্ধা মায়ের দুশ্চিন্তা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এই দুশ্চিন্তা নিয়েই রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন আব্দুল হাই; কিন্তু সেই ঘুমই যে তার শেষ ঘুম হবে, তা কে জানত?
অর্থাভাবে আটকে আছে শেষ বিদায়
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু অভিভাবকই হারায়নি, পড়েছে এক বিশাল অনিশ্চয়তায়। বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়ায় সরকারি আইনি জটিলতা আর টাকার অভাবে তার মরদেহ দেশে আনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিভৃত পল্লীর এই হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে লাখ লাখ টাকা খরচ করে মরদেহ দেশে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
“আমার ছেলেটা দেশের জন্য গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের তো সামর্থ্য নেই ওকে শেষবারের মতো দেখার। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আকুতি, আমার বাবার লাশটা যেন আমাদের গ্রামে এনে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়।”
— কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হাইয়ের বৃদ্ধ মা।
সরকারের প্রতি আকুল আবেদন
পুড়ার চর গ্রামবাসীর দাবি, আব্দুল হাই একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন। একজন প্রবাসী নাগরিক হিসেবে তার মরদেহটি নিজ মাটিতে দাফন করার অধিকার তার পরিবারের আছে। রৌমারী উপজেলার এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
মরুভূমির তপ্ত বালুতে যেন কোনো বাংলাদেশি সন্তানের শেষ ঠিকানা না হয়, বরং প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে নিজ দেশের মাটিতে যেন তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেন—এই এখন পুরো রৌমারীবাসীর চাওয়া।
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মোবাইলঃ01740453802

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মরুভূমিতেই নিভলো প্রাণ: প্রবাসীর লাশ ফেরাতে রৌমারীবাসীর মিনতি”

Update Time : ১১:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মরুভূমিতেই নিভলো প্রাণ: প্রবাসীর লাশ ফেরাতে রৌমারীবাসীর মিনতি”
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনবেন—এই স্বপ্ন নিয়েই মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পুড়ার চরের যুবক আব্দুল হাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ কফিনে বন্দি। গত রাতে সৌদি আরবে নিজ কর্মস্থলে ঘুমের ঘোরেই না-ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।
স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর খবরে পুড়ার চর গ্রামে এখন শোকের মাতম। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। একদিকে আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ শেষ, অন্যদিকে নবায়ন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। বৈধ কাগজপত্রের অভাবে যেকোনো সময় ধরা পড়ার ভয় আর বাড়িতে থাকা বৃদ্ধা মায়ের দুশ্চিন্তা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এই দুশ্চিন্তা নিয়েই রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন আব্দুল হাই; কিন্তু সেই ঘুমই যে তার শেষ ঘুম হবে, তা কে জানত?
অর্থাভাবে আটকে আছে শেষ বিদায়
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু অভিভাবকই হারায়নি, পড়েছে এক বিশাল অনিশ্চয়তায়। বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়ায় সরকারি আইনি জটিলতা আর টাকার অভাবে তার মরদেহ দেশে আনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিভৃত পল্লীর এই হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে লাখ লাখ টাকা খরচ করে মরদেহ দেশে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
“আমার ছেলেটা দেশের জন্য গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের তো সামর্থ্য নেই ওকে শেষবারের মতো দেখার। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আকুতি, আমার বাবার লাশটা যেন আমাদের গ্রামে এনে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়।”
— কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হাইয়ের বৃদ্ধ মা।
সরকারের প্রতি আকুল আবেদন
পুড়ার চর গ্রামবাসীর দাবি, আব্দুল হাই একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন। একজন প্রবাসী নাগরিক হিসেবে তার মরদেহটি নিজ মাটিতে দাফন করার অধিকার তার পরিবারের আছে। রৌমারী উপজেলার এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
মরুভূমির তপ্ত বালুতে যেন কোনো বাংলাদেশি সন্তানের শেষ ঠিকানা না হয়, বরং প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে নিজ দেশের মাটিতে যেন তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেন—এই এখন পুরো রৌমারীবাসীর চাওয়া।
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মোবাইলঃ01740453802