০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‎‎মোংলা বন্দরে আবারো জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ Time View

‎‎মোংলা বন্দরে আবারো জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

‎মোংলা বন্দরে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ লাইটার জাহাজ তেলের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অলস অবস্থায় থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘ সূত্রীতা দেখা দিয়েছে।

‎জ্বালানির ঘাটতি ও লাইটারের সংকটের কারণে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে।

‎এতে আমদানিকারকরা জরিমানা সহ বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
‎পশুর নদীতে ও খুলনার রুপসা সহ চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় শত শত খালি লাইটার দীর্ঘদিন নোঙ্গর করে রয়েছে।

‎এম.ভি. আর-রশিদ-০১ লাইটারের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা এক সপ্তাহ পণ্য বোঝাই করতে পারেননি।

‎সেভেন সার্কেল সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, লাইটার সংকটের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল নির্দিষ্ট সময়ে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে এবং কলকারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে।

‎শেখ সিমেন্টের এজিএম আজাদুল হক বলেন, লাইটার তেলের অভাবে কারখানায় ক্লিংকার আনতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

‎লাইটার মালিক মো. খোকন বলেন, বাজারে তেল সরবরাহ করতে বলা হলেও ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় পণ্য বোঝাই সম্ভব হচ্ছে না।

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলা মেরিন ডিলার ও এজেন্ট এইচ. এম. দুলাল বলেন, বন্দরে জাহাজ আগমন বৃদ্ধির কারণে তেলের চাহিদা বেড়েছে। তবে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, তেলের সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তবে সীমিত প্রাপ্যতার কারণে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

‎‎মোংলা বন্দরে আবারো জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা

Update Time : ০৮:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

‎‎মোংলা বন্দরে আবারো জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

‎মোংলা বন্দরে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ লাইটার জাহাজ তেলের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অলস অবস্থায় থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘ সূত্রীতা দেখা দিয়েছে।

‎জ্বালানির ঘাটতি ও লাইটারের সংকটের কারণে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে।

‎এতে আমদানিকারকরা জরিমানা সহ বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
‎পশুর নদীতে ও খুলনার রুপসা সহ চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় শত শত খালি লাইটার দীর্ঘদিন নোঙ্গর করে রয়েছে।

‎এম.ভি. আর-রশিদ-০১ লাইটারের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা এক সপ্তাহ পণ্য বোঝাই করতে পারেননি।

‎সেভেন সার্কেল সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, লাইটার সংকটের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল নির্দিষ্ট সময়ে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে এবং কলকারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে।

‎শেখ সিমেন্টের এজিএম আজাদুল হক বলেন, লাইটার তেলের অভাবে কারখানায় ক্লিংকার আনতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

‎লাইটার মালিক মো. খোকন বলেন, বাজারে তেল সরবরাহ করতে বলা হলেও ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় পণ্য বোঝাই সম্ভব হচ্ছে না।

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলা মেরিন ডিলার ও এজেন্ট এইচ. এম. দুলাল বলেন, বন্দরে জাহাজ আগমন বৃদ্ধির কারণে তেলের চাহিদা বেড়েছে। তবে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, তেলের সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তবে সীমিত প্রাপ্যতার কারণে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ করা হচ্ছে।