০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“শূন্য থেকে স্বপ্ন ছোঁয়া: রৌমারীতে বেগুনি দেখাচ্ছেন নতুন পথ” কে,এম,জাকির

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ১১ Time View

“শূন্য থেকে স্বপ্ন ছোঁয়া: রৌমারীতে বেগুনি দেখাচ্ছেন নতুন পথ”
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক অভাবনীয় সাফল্যের গল্প লিখছেন ৩৪ বছর বয়সী বেগুনি। জন্মসূত্রে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাসিন্দা হলেও ১২ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধে নাম লিখিয়েছিলেন এই জনপদে। আজ তিনি ৪ নং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের একজন সচেতন ভোটার। কিন্তু তার পরিচয় কেবল ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি আজ রৌমারীর একজন সফল খামারি।
৩টি রাজহাঁস থেকে শুরু হওয়া এক স্বপ্ন, শুরুটা হয়েছিল নিছক সময় কাটানোর জন্য। মাত্র ৩টি রাজহাঁস দিয়ে বেগুনির এই যাত্রা শুরু হয়। অদম্য পরিশ্রমে সেই সংখ্যা একসময় গিয়ে দাঁড়ায় ২৫০-এ। তবে সফলতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। কিছুদিন আগে চুরির কবলে পড়া এবং ভাইরাসের সংক্রমণে অনেকগুলো হাঁস হারিয়ে বর্তমানে তার সংগ্রহে আছে ৫০টি রাজহাঁস। লোকসানের সেই কঠিন সময়েও তিনি দমে যাননি। আইন বা থানা-পুলিশের পেছনে না ছুটে সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রসারিত হচ্ছে বেগুনির খামার রাজহাঁসে সফলতা পাওয়ার পর বেগুনি তার খামারে যোগ করেছেন ১৮০০ বয়লার মুরগি। তার এই পথচলায় কোনো সরকারি প্রকল্পের সহায়তা ছিল না। সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এবং মেধা খাটিয়ে তিনি এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। কৃতজ্ঞতাভরে তিনি স্মরণ করেন সেই জমির মালিককে, যিনি তাকে বিনামূল্যে এই খামার তৈরির জায়গাটি করে দিয়েছেন। বেগুনির মতে, “এই সুযোগটাই আমার সাফল্যের ভিত্তি।” “আমরা সমাজের বোঝা নই। আমরা যে কাজ করতে পারি এবং সম্মানের সাথে বাঁচতে পারি, কর্মের মাধ্যমেই তা দেখিয়ে দিতে চাই।” — বেগুনি
এক অনুপ্রেরণার নাম বেগুনি আজ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি সমাজের যে প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা থাকলে শূন্য থেকেও শুরু করা যায়। সরকারের কোনো সাহায্য না পেলেও নিজের শ্রমে আজ তিনি স্বাবলম্বী। বেগুনি এখন স্বপ্ন দেখেন তার এই খামারকে আরও বড় করার এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার। তার এই জীবনযুদ্ধ আমাদের শেখায়, বাধা আসলেও থেমে না গিয়ে কীভাবে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

“শূন্য থেকে স্বপ্ন ছোঁয়া: রৌমারীতে বেগুনি দেখাচ্ছেন নতুন পথ” কে,এম,জাকির

Update Time : ০৫:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

“শূন্য থেকে স্বপ্ন ছোঁয়া: রৌমারীতে বেগুনি দেখাচ্ছেন নতুন পথ”
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক অভাবনীয় সাফল্যের গল্প লিখছেন ৩৪ বছর বয়সী বেগুনি। জন্মসূত্রে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাসিন্দা হলেও ১২ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধে নাম লিখিয়েছিলেন এই জনপদে। আজ তিনি ৪ নং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের একজন সচেতন ভোটার। কিন্তু তার পরিচয় কেবল ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি আজ রৌমারীর একজন সফল খামারি।
৩টি রাজহাঁস থেকে শুরু হওয়া এক স্বপ্ন, শুরুটা হয়েছিল নিছক সময় কাটানোর জন্য। মাত্র ৩টি রাজহাঁস দিয়ে বেগুনির এই যাত্রা শুরু হয়। অদম্য পরিশ্রমে সেই সংখ্যা একসময় গিয়ে দাঁড়ায় ২৫০-এ। তবে সফলতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। কিছুদিন আগে চুরির কবলে পড়া এবং ভাইরাসের সংক্রমণে অনেকগুলো হাঁস হারিয়ে বর্তমানে তার সংগ্রহে আছে ৫০টি রাজহাঁস। লোকসানের সেই কঠিন সময়েও তিনি দমে যাননি। আইন বা থানা-পুলিশের পেছনে না ছুটে সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রসারিত হচ্ছে বেগুনির খামার রাজহাঁসে সফলতা পাওয়ার পর বেগুনি তার খামারে যোগ করেছেন ১৮০০ বয়লার মুরগি। তার এই পথচলায় কোনো সরকারি প্রকল্পের সহায়তা ছিল না। সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এবং মেধা খাটিয়ে তিনি এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। কৃতজ্ঞতাভরে তিনি স্মরণ করেন সেই জমির মালিককে, যিনি তাকে বিনামূল্যে এই খামার তৈরির জায়গাটি করে দিয়েছেন। বেগুনির মতে, “এই সুযোগটাই আমার সাফল্যের ভিত্তি।” “আমরা সমাজের বোঝা নই। আমরা যে কাজ করতে পারি এবং সম্মানের সাথে বাঁচতে পারি, কর্মের মাধ্যমেই তা দেখিয়ে দিতে চাই।” — বেগুনি
এক অনুপ্রেরণার নাম বেগুনি আজ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি সমাজের যে প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা থাকলে শূন্য থেকেও শুরু করা যায়। সরকারের কোনো সাহায্য না পেলেও নিজের শ্রমে আজ তিনি স্বাবলম্বী। বেগুনি এখন স্বপ্ন দেখেন তার এই খামারকে আরও বড় করার এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার। তার এই জীবনযুদ্ধ আমাদের শেখায়, বাধা আসলেও থেমে না গিয়ে কীভাবে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে হয়।