০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে লিটাকে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫ Time View

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে লিটাকে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী

মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধা থেকে নারী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মোছা. দেওয়ান মাহামুদ লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ। তিনি সাঘাটা উপজেলার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এবং দুটি আইসিটি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলার বিবরণ : (মামলার সংখ্যা ০৬ (ছয়) টি।
​১. ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিিযপয়ার গ্রেফতার করার প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেফতার হয়ে ৪২ দিন কারাবরণ।
​২. ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতার করার প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেফতার এবং ঐ গ্রেফতারের পর আরো দু’টি মামলা হয়, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিস্ফোরক মামলায় দেওয়া হয়। উক্ত মামলা দু’টির জন্য আরো ৬৩ (তেষট্টি) দিন কারাবরণ করেন।
​৩. ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফেসবুকে সত্য ঘটনা প্রচার করার কারণে তার নামে আইসিটি মামলা হয় এবং চট্টগ্রাম হতে ঢাকায় আসার পথে ফেনী লালপোল এলাকা থেকে প্রায় ৮/৯টি র‍্যাবের গাড়ী বহর এসে সৌদিয়া গাড়ীর পথরোধের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে, র‍্যাব এর হেফাজতে ৩৩ ঘণ্টা থাকার পর ২২ শে জানুয়ারী চট্টগ্রামের খুলশী থানায় হস্তান্তর করে ও মামলা দিয়ে দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে চালান করেন এবং বিজ্ঞ আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। খুলশী থানায় দু’ই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় ঐ মামলায় তিনি ১৮৬ দিন কারাবরণ করেন, বর্তমানে ঐ মামলার সাক্ষী গ্রহণ চলছে এবং মামলা চলমান অবস্থায় আছে। বাংলাদেশে প্রায় মোট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কর্তৃক বিএনপি’র নামে ৬০ লক্ষ মামলার মধ্যে একটি মাত্র আইসিটি মামলা হয়, সেই মামলায় তিনিই একমাত্র আসামী।
​৪. ২০১৯ সালের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আরো একটি আইসিটি মামলা হয় ও উক্ত মামলায় গ্রেফতার করে, গাজীপুরস্থ কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমি ৯৮ দিন কারাবরণ করেন।
​৫. ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলায় বাংলাদেশ হেফাজত এর আন্দোলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করে এবং এই মামলায় তিনি ৭৪ দিন কারাবরণ করেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম: মানবিক বিভাগ; এইচএসসি।
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম, (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএস (অনার্স) সমাজবিজ্ঞান।
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম, (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমএসএস (মাস্টার্স) সমাজবিজ্ঞান।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দেওয়ান মাহামুদ লিটা একজন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেত্রী। দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি সংরক্ষিত আসনের দাবিদার বলে মনে করেন তারা।

দেওয়ান মাহামুদ লিটা বলেন, গাইবান্ধা তাঁর স্বামীর বাড়ি হলেও এখানকার মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমি সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে লিটাকে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী

Update Time : ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে লিটাকে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী

মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধা থেকে নারী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মোছা. দেওয়ান মাহামুদ লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ। তিনি সাঘাটা উপজেলার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এবং দুটি আইসিটি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলার বিবরণ : (মামলার সংখ্যা ০৬ (ছয়) টি।
​১. ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিিযপয়ার গ্রেফতার করার প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেফতার হয়ে ৪২ দিন কারাবরণ।
​২. ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতার করার প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেফতার এবং ঐ গ্রেফতারের পর আরো দু’টি মামলা হয়, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিস্ফোরক মামলায় দেওয়া হয়। উক্ত মামলা দু’টির জন্য আরো ৬৩ (তেষট্টি) দিন কারাবরণ করেন।
​৩. ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফেসবুকে সত্য ঘটনা প্রচার করার কারণে তার নামে আইসিটি মামলা হয় এবং চট্টগ্রাম হতে ঢাকায় আসার পথে ফেনী লালপোল এলাকা থেকে প্রায় ৮/৯টি র‍্যাবের গাড়ী বহর এসে সৌদিয়া গাড়ীর পথরোধের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে, র‍্যাব এর হেফাজতে ৩৩ ঘণ্টা থাকার পর ২২ শে জানুয়ারী চট্টগ্রামের খুলশী থানায় হস্তান্তর করে ও মামলা দিয়ে দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে চালান করেন এবং বিজ্ঞ আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। খুলশী থানায় দু’ই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় ঐ মামলায় তিনি ১৮৬ দিন কারাবরণ করেন, বর্তমানে ঐ মামলার সাক্ষী গ্রহণ চলছে এবং মামলা চলমান অবস্থায় আছে। বাংলাদেশে প্রায় মোট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কর্তৃক বিএনপি’র নামে ৬০ লক্ষ মামলার মধ্যে একটি মাত্র আইসিটি মামলা হয়, সেই মামলায় তিনিই একমাত্র আসামী।
​৪. ২০১৯ সালের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আরো একটি আইসিটি মামলা হয় ও উক্ত মামলায় গ্রেফতার করে, গাজীপুরস্থ কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমি ৯৮ দিন কারাবরণ করেন।
​৫. ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলায় বাংলাদেশ হেফাজত এর আন্দোলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করে এবং এই মামলায় তিনি ৭৪ দিন কারাবরণ করেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম: মানবিক বিভাগ; এইচএসসি।
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম, (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএস (অনার্স) সমাজবিজ্ঞান।
​চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম, (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমএসএস (মাস্টার্স) সমাজবিজ্ঞান।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দেওয়ান মাহামুদ লিটা একজন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেত্রী। দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি সংরক্ষিত আসনের দাবিদার বলে মনে করেন তারা।

দেওয়ান মাহামুদ লিটা বলেন, গাইবান্ধা তাঁর স্বামীর বাড়ি হলেও এখানকার মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমি সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।