১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে মিলল ৪ দিন নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ Time View

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে মিলল ৪ দিন নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিখোঁজ হন কহিনুর আক্তার • সিসিটিভি ফুটেজে লিফটে প্রবেশের দৃশ্য • চারদিন পর লিফটের নিচে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
৭ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে চারদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হলে পুরো হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত নারী কহিনুর আক্তার (৩২) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৩ মার্চ) নিজের সাত বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন কহিনুর আক্তার। শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও সেদিন বিকেলের পর থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
নিহতের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চারদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার চাচির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি র‍্যাব ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। পরে শনিবার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন কহিনুর আক্তার চারতলার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি।
তিনি আরও জানান, ফুটেজের সূত্র ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফটটি পরীক্ষা করলে লিফটের নিচের অংশে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সরকারি এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মরদেহ চারদিন ধরে লিফটের নিচে পড়ে ছিল অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতে পারেনি—এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রামুর বাসিন্দা তৈয়ব হোসেন বলেন, নিয়মিত লিফটের ত্রুটি পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকত না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মং টিংঞো’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কুমিল্লা টিক্কাচর মহাশ্মশানে শ্রীশ্রী বাসন্তী মায়ের পূজা শুরু ২৪ মার্চ তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা থেকে।। সারাদেশের ন্যায় আসছে ২৪ মার্চ হতে ২৮ মার্চ ৫ দিনব্যাপী কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডস্থিত টিক্কাচর মহাশ্মশান হিন্দু সৎকার সংঘের আয়োজনে শ্রীশ্রী শিব শংকর ও শ্মশান কালী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ৯ম শ্রীশ্রী বাসন্তী মায়ের পূজা। এ উপলক্ষে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার সায়ংকালে শ্রীশ্রী বাসন্তী মায়ের আমন্ত্রণ, অধিবাস ও ষষ্ঠী পূজা এবং ২৫ মার্চ বুধবার সপ্তমী বিহিত পূজা, ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার অষ্টমী বিহিত পূজা, ২৭ মার্চ শুক্রবার নবমী বিহিত পূজা এবং ২৮ মার্চ শনিবার দশমী বিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন প্রশস্তা। জানা যায়- এবছর দেবী নৌকায় আগমন করবেন এবং ঘোটকে গমন করবেন। ওই মহতী অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে সনাতনী সকলের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেছেন আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে মিলল ৪ দিন নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ

Update Time : ০৭:৩০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে মিলল ৪ দিন নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিখোঁজ হন কহিনুর আক্তার • সিসিটিভি ফুটেজে লিফটে প্রবেশের দৃশ্য • চারদিন পর লিফটের নিচে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
৭ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে চারদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হলে পুরো হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত নারী কহিনুর আক্তার (৩২) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৩ মার্চ) নিজের সাত বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন কহিনুর আক্তার। শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও সেদিন বিকেলের পর থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
নিহতের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চারদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার চাচির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি র‍্যাব ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। পরে শনিবার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন কহিনুর আক্তার চারতলার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি।
তিনি আরও জানান, ফুটেজের সূত্র ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফটটি পরীক্ষা করলে লিফটের নিচের অংশে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সরকারি এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মরদেহ চারদিন ধরে লিফটের নিচে পড়ে ছিল অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতে পারেনি—এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রামুর বাসিন্দা তৈয়ব হোসেন বলেন, নিয়মিত লিফটের ত্রুটি পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকত না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মং টিংঞো’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।