০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য ডাঃ বাবরকে ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী” হিসেবে দেখতে চায় সাধারন মানুষ

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬ Time View

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য ডাঃ বাবরকে ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী” হিসেবে দেখতে চায় সাধারন মানুষ

রাতুল আহম্মেদ গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-০২ আসন। যেখানে এক সময় বিএনপির রাজনীতি করা ছিল জীবনের চরম ঝুঁকি নেওয়ার নামান্তর, সেখানে অকুতোভয় এক নেতার উত্থান ঘটেছে। তিনি ডাঃ কে এম বাবর। আগামীকাল তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

এই শপথের প্রাক্কালে গোপালগঞ্জ-০২ আসনের ২৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এখন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারাও এক সুরে দাবি তুলেছেন—তৃণমূলের প্রিয় মুখ ডাঃ বাবরকে দেশের আগামীর ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চাই। গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। দীর্ঘকাল পর তারা এমন একজন সজ্জ্বন ও সৎ নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছেন, যাকে ঘিরে তারা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন।

জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান অত্যান্ত নাজুক অবস্থা। ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। ফলে এ জেলার মানুষকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা থেকে। মুমূর্ষ রোগী আসলেই চিকিৎসাসেবা না দিয়েই পাঠানো হয় ঢাকা অথবা খুলনায়। ফলে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে একদিকে, রোগীদের যেমন বাঁচানো সম্ভব হতো না অন্যদিকে, সময় ও অর্থ দুটোই বৃথা যেত রোগীর পরিবারের। তাই এ জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিলো স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের, সুচিকিৎসা নিশ্চিতের। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েই জেলার স্বাস্থ্যখাতের আমুল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডা: কে এম বারব। তাই এ আসনের সাধারন ভোটারা পরিবর্তনের জন্য তাকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, ডাঃ বাবর কেবল একজন বড় রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি একজন দেশপ্রেমিক এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ। তারা মনে করেন, গোপালগঞ্জের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ডাঃ বাবরের মতো একজন সৎ ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় (প্রতিমন্ত্রী হিসেবে) অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই ডাঃ বাবর প্রমাণ করেছেন তিনি কেন ব্যতিক্রম। শপথ নেওয়ার আগেই তিনি ছুটে গিয়েছেন গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও গোপালগঞ্জ-২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে, নিজে খোঁজ নিয়েছেন সাধারণ রোগীদের। কেবল তাই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়কে দেওয়া নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান ওড়াকান্দিতে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের কাছে তিনি আজ এক আস্থার প্রতীক।

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সাধারণ মানুষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল পরিবেশে দলের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে রাখা এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার পুরস্কার হিসেবে ডাঃ বাবরকে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হোক।

একজন দক্ষ ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলে তা কেবল গোপালগঞ্জের মানুষের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের একটি ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ থাকলেও বরাবরই আমরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চতি রয়েছি। এ আক্ষেপ আমাদের দীর্ঘ দিনের। হাসপাতালে গিয়ে সুচিকিৎসা পাওয়া পাওয়া তো দূরের কথা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও আমরা বঞ্চিত ছিলাম। আমরা আশা করি নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করবে এবং আমি বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে অনুরোধ করবো ডা: কে এম বাবরকে যেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রী হলে শুধু গোপালগঞ্জ জেলা নয় দেশের স্বাস্থ্যখাতের আমুল পরিবর্তন করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: কে এম বাবর বলেন, আমার জেলার মানুষ দীর্ঘ বছর থেকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো জেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করা। ভোটারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এখন আমার দায়িত্ব হলো আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। আমি জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ইতিমধ্যে কাজ শুর করেছি। এ জেলার মানুষের আশার দাম দিবে হাইকমান্ড এমনটাই আমি বিশ্বাস করি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য ডাঃ বাবরকে ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী” হিসেবে দেখতে চায় সাধারন মানুষ

Update Time : ০৮:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য ডাঃ বাবরকে ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী” হিসেবে দেখতে চায় সাধারন মানুষ

রাতুল আহম্মেদ গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-০২ আসন। যেখানে এক সময় বিএনপির রাজনীতি করা ছিল জীবনের চরম ঝুঁকি নেওয়ার নামান্তর, সেখানে অকুতোভয় এক নেতার উত্থান ঘটেছে। তিনি ডাঃ কে এম বাবর। আগামীকাল তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

এই শপথের প্রাক্কালে গোপালগঞ্জ-০২ আসনের ২৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এখন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারাও এক সুরে দাবি তুলেছেন—তৃণমূলের প্রিয় মুখ ডাঃ বাবরকে দেশের আগামীর ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চাই। গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। দীর্ঘকাল পর তারা এমন একজন সজ্জ্বন ও সৎ নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছেন, যাকে ঘিরে তারা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন।

জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান অত্যান্ত নাজুক অবস্থা। ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। ফলে এ জেলার মানুষকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা থেকে। মুমূর্ষ রোগী আসলেই চিকিৎসাসেবা না দিয়েই পাঠানো হয় ঢাকা অথবা খুলনায়। ফলে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে একদিকে, রোগীদের যেমন বাঁচানো সম্ভব হতো না অন্যদিকে, সময় ও অর্থ দুটোই বৃথা যেত রোগীর পরিবারের। তাই এ জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিলো স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের, সুচিকিৎসা নিশ্চিতের। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েই জেলার স্বাস্থ্যখাতের আমুল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডা: কে এম বারব। তাই এ আসনের সাধারন ভোটারা পরিবর্তনের জন্য তাকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, ডাঃ বাবর কেবল একজন বড় রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি একজন দেশপ্রেমিক এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ। তারা মনে করেন, গোপালগঞ্জের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ডাঃ বাবরের মতো একজন সৎ ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় (প্রতিমন্ত্রী হিসেবে) অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই ডাঃ বাবর প্রমাণ করেছেন তিনি কেন ব্যতিক্রম। শপথ নেওয়ার আগেই তিনি ছুটে গিয়েছেন গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও গোপালগঞ্জ-২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে, নিজে খোঁজ নিয়েছেন সাধারণ রোগীদের। কেবল তাই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়কে দেওয়া নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান ওড়াকান্দিতে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের কাছে তিনি আজ এক আস্থার প্রতীক।

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সাধারণ মানুষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল পরিবেশে দলের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে রাখা এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার পুরস্কার হিসেবে ডাঃ বাবরকে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হোক।

একজন দক্ষ ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলে তা কেবল গোপালগঞ্জের মানুষের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের একটি ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ থাকলেও বরাবরই আমরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চতি রয়েছি। এ আক্ষেপ আমাদের দীর্ঘ দিনের। হাসপাতালে গিয়ে সুচিকিৎসা পাওয়া পাওয়া তো দূরের কথা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও আমরা বঞ্চিত ছিলাম। আমরা আশা করি নব নির্বাচতি সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করবে এবং আমি বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে অনুরোধ করবো ডা: কে এম বাবরকে যেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রী হলে শুধু গোপালগঞ্জ জেলা নয় দেশের স্বাস্থ্যখাতের আমুল পরিবর্তন করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: কে এম বাবর বলেন, আমার জেলার মানুষ দীর্ঘ বছর থেকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো জেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করা। ভোটারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এখন আমার দায়িত্ব হলো আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। আমি জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ইতিমধ্যে কাজ শুর করেছি। এ জেলার মানুষের আশার দাম দিবে হাইকমান্ড এমনটাই আমি বিশ্বাস করি।