০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস: গরিব-অসহায়দের পাশে অবিরাম ছুটে চলা এক অক্লান্ত যোদ্ধা
Reporter Name
- Update Time : ১১:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪ Time View

- মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস: গরিব-অসহায়দের পাশে অবিরাম ছুটে চলা এক অক্লান্ত যোদ্ধা
মোঃ এনামুল হক ভাগুড়া উপজেলা পতিনিধি
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অসাধারণ মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি মামুন বিশ্বাস, যাকে দেশের লাখো মানুষ চেনেন “মানবতার ফেরিওয়ালা” নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে হাতিয়ার করে তিনি বছরের পর বছর ধরে অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন। তার এই নিঃস্বার্থ কাজের জন্য তিনি দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি যমুনা নদীর তীরে একটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে এলাকাবাসী। নদীভাঙনের শিকার গরিব-অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে মামুন বিশ্বাস ভাই খাদ্যসামগ্রী, চাল-ডাল, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে—নদীর বালুকাময় তীরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, তার সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, বস্তায় ভরা চাল-ডাল, ও অন্যান্য সাহায্যসামগ্রী। এই দৃশ্য শুধু একটি বিতরণের ছবি নয়, বরং মানবতার জয়গান। নদীভাঙনে ঘর-বাড়ি হারানো মানুষদের মুখে যখন হতাশার ছাপ, তখন মামুন ভাইয়ের এই উদ্যোগ তাদের নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে।
মামুন বিশ্বাসের যাত্রা শুরু হয়েছে অনেক আগে। প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তান হিসেবে তিনি নিজের চোখে দেখেছেন দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব ও অসুস্থতার যন্ত্রণা। ২০১০-এর দশক থেকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে শুরু করেন। কোনো শিশুর হার্টের ছিদ্র, কোনো পরিবারের ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিয়ের আয়োজন, চিকিৎসা, খাদ্যসাহায্য—সবকিছুতেই তার অবদান। তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে খোঁজ নেন, ছবি-ভিডিও তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করে সরাসরি সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দেন। তার ফেসবুক পেজে লাখ লাখ ফলোয়ার, যারা বিশ্বাস করেন যে টাকা পৌঁছাবে সঠিক জায়গায়।
তিনি শুধু আর্থিক সহায়তাই দেন না, ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেন, বিয়ের ব্যবস্থা করেন, প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকেন এমনকি আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেও মানবতা দেখান। DBC News, Somoy TV, যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার কাজ নিয়মিত প্রচারিত হয়। “ইত্যাদি” অনুষ্ঠানেও তার ফেসবুক-ভিত্তিক মানবসেবা তুলে ধরা হয়েছে।
মামুন বিশ্বাস বলেন, “দিনশেষে একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারলে আমার সার্থকতা।” তার এই কাজে সহযোগিতা করেন স্থানীয় সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও হাজারো স্বেচ্ছাসেবক। যমুনার তীরে এই সাম্প্রতিক সাহায্য বিতরণ তার অবিরাম যাত্রার একটি অংশ মাত্র।
মামুন বিশ্বাসের মতো মানুষরা প্রমাণ করেন যে, মানবতা এখনো বেঁচে আছে। তিনি একা নন—তার পাশে আছেন লাখো মানুষের ভালোবাসা। আসুন, আমরাও তার এই মহৎ কাজে সহযোগী হই। জয় হোক মানবতার!
(ছবি: যমুনা নদীর তীরে অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন মামুন বিশ্বাস ভাই ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। এই উদ্যোগে গরিব মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।)
Tag :











