০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিঠাপুকুরে দুই ভাসুরের অত্যাচারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০ Time View

মিঠাপুকুরে দুই ভাসুরের অত্যাচারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আব্দুল হালিম,বিশেষ প্রতিবেদক :

রংপুরের মিঠাপুকুরে পৈতৃক জমি দখল, দফায় দফায় মারধর এবং মিথ্যা মামলার হাত থেকে বাঁচতে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোহিনূর বেগম (৪০)। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
​সংবাদ সম্মেলনে কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেন, তার শ্বশুর মনতাজ আলীর তিন ছেলের মধ্যে তার স্বামী আজিজুল ইসলাম সবার ছোট। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে দীর্ঘ ২৪ বছর ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেছেন। এই সুযোগে তার দুই ভাসুর আনিছুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম তাদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সব নিজেদের নামে লিখে নেন। এমনকি শ্বশুর জীবিত থাকাকালীন কোহিনূর দম্পতিকে যেটুকু জমি দিয়েছিলেন, তারা ঢাকায় থাকার সুযোগে ভাসুররা তা অন্য জায়গায় বন্ধক রাখেন।
​ভুক্তভোগী আরও জানান, তারা ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসার পর জমি ফেরত চাইলে শুরু হয় বিবাদ। ভাসুররা তার শ্বশুরকে উসকানি দিয়ে সেই দানকৃত জমির দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করান। বর্তমানে কোহিনূর বেগম বাড়িতে একা বসবাস করায় তাকে উচ্ছেদ করার জন্য দুই ভাসুর ও ননদ। মিলে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
কোহিনূর বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আনিছুর ও আশরাফুল এ পর্যন্ত ৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এমনকি আমার শ্বশুর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেও সেই ঘটনাকে ‘হত্যা’ সাজিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন জানান, কোহিনূর বেগমকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে গিয়ে তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধেও আনিছুর ও আশরাফুল একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে তারা দাবি করেন।
কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেন, বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে পুলিশের কাছে গেলেও পুলিশ তার মামলা গ্রহণ করছে না। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।এলাকাবাসী বলছেন, কহিনুর একজন মামলাবাজ মহিলা।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ভাইদের বিরোধ থেকে দুই পরিবারের একাধিক মামলা আদালতে চলমান। ওই নারীর সঙ্গে কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি সহ ফৌজদারি ঘটনা ঘটলে পুলিশ মামলা নেবে।##৬-২-২০২৬

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মিঠাপুকুরে দুই ভাসুরের অত্যাচারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৯:২৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিঠাপুকুরে দুই ভাসুরের অত্যাচারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আব্দুল হালিম,বিশেষ প্রতিবেদক :

রংপুরের মিঠাপুকুরে পৈতৃক জমি দখল, দফায় দফায় মারধর এবং মিথ্যা মামলার হাত থেকে বাঁচতে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোহিনূর বেগম (৪০)। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
​সংবাদ সম্মেলনে কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেন, তার শ্বশুর মনতাজ আলীর তিন ছেলের মধ্যে তার স্বামী আজিজুল ইসলাম সবার ছোট। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে দীর্ঘ ২৪ বছর ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেছেন। এই সুযোগে তার দুই ভাসুর আনিছুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম তাদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সব নিজেদের নামে লিখে নেন। এমনকি শ্বশুর জীবিত থাকাকালীন কোহিনূর দম্পতিকে যেটুকু জমি দিয়েছিলেন, তারা ঢাকায় থাকার সুযোগে ভাসুররা তা অন্য জায়গায় বন্ধক রাখেন।
​ভুক্তভোগী আরও জানান, তারা ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসার পর জমি ফেরত চাইলে শুরু হয় বিবাদ। ভাসুররা তার শ্বশুরকে উসকানি দিয়ে সেই দানকৃত জমির দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করান। বর্তমানে কোহিনূর বেগম বাড়িতে একা বসবাস করায় তাকে উচ্ছেদ করার জন্য দুই ভাসুর ও ননদ। মিলে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
কোহিনূর বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আনিছুর ও আশরাফুল এ পর্যন্ত ৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এমনকি আমার শ্বশুর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেও সেই ঘটনাকে ‘হত্যা’ সাজিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন জানান, কোহিনূর বেগমকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে গিয়ে তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধেও আনিছুর ও আশরাফুল একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে তারা দাবি করেন।
কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেন, বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে পুলিশের কাছে গেলেও পুলিশ তার মামলা গ্রহণ করছে না। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।এলাকাবাসী বলছেন, কহিনুর একজন মামলাবাজ মহিলা।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ভাইদের বিরোধ থেকে দুই পরিবারের একাধিক মামলা আদালতে চলমান। ওই নারীর সঙ্গে কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি সহ ফৌজদারি ঘটনা ঘটলে পুলিশ মামলা নেবে।##৬-২-২০২৬