০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রৌমারীর কৃষি ও প্রকৃতি রক্ষায় জনমত: একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ কে.এম.জাকির

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২ Time View

রৌমারীর কৃষি ও প্রকৃতি রক্ষায় জনমত: একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ
কে.এম.জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, আর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা তার অন্যতম এক উর্বর জনপদ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশব্যাপী যে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা রৌমারীর ঝিমিয়ে পড়া কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে। সম্প্রতি রৌমারী উপজেলা প্রশাসন জনগুরুত্বপূর্ণ খালের নাম প্রস্তাব করার যে আহ্বান জানিয়েছে, তা কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং তৃণমূলের মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

কেন এই উদ্যোগ রৌমারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
রৌমারী উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী খালগুলো এখানকার জীবনরেখা। বিগত কয়েক দশকে পলি জমে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, যা মূলত তিনটি প্রধান সমস্যার সৃষ্টি করছে:

কৃষি সেচের অভাব: শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে ভোগেন। খাল সংস্কার হলে প্রাকৃতিক পানির আধার তৈরি হবে।

জলাবদ্ধতা: বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ থাকায় ফসলি জমি ও জনবসতি তলিয়ে যায়, যা গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

পরিবেশের ভারসাম্য: জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঘটছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

জনগণের অংশগ্রহণই সাফল্যের চাবিকাঠি
উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সাধারণ মানুষের মতামত চেয়েছেন। কারণ, একটি এলাকার কোন খালটি পুনঃখনন করলে সবচেয়ে বেশি মানুষ উপকৃত হবে, তা ওই এলাকার কৃষিজীবী মানুষের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। এটি সরকারের “বটম-আপ অ্যাপ্রোচ” বা নিচ থেকে উপরে উন্নয়ন পরিকল্পনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আমাদের করণীয়
এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ, আপনারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এমন খালের নাম প্রস্তাব করুন যা:

বৃহত্তর এলাকার কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করবে।

সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খাল খননের এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে রৌমারীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে। প্রশাসনের এই আহবানে সাড়া দিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। সঠিক পরিকল্পনা আর জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি সমৃদ্ধ ও জলাবদ্ধতামুক্ত রৌমারী গড়তে।

আপনার মতামত জানান:
আপনার এলাকায় কোন খালটি খনন করা সবচেয়ে জরুরি? উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে অথবা সরাসরি লিখিতভাবে আপনার যুক্তিযুক্ত মতামত প্রদান করুন। আপনার একটি সঠিক তথ্য বদলে দিতে পারে হাজারো কৃষকের ভাগ্য।

কে.এম.জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রৌমারীর কৃষি ও প্রকৃতি রক্ষায় জনমত: একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ কে.এম.জাকির

Update Time : ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রৌমারীর কৃষি ও প্রকৃতি রক্ষায় জনমত: একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ
কে.এম.জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, আর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা তার অন্যতম এক উর্বর জনপদ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশব্যাপী যে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা রৌমারীর ঝিমিয়ে পড়া কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে। সম্প্রতি রৌমারী উপজেলা প্রশাসন জনগুরুত্বপূর্ণ খালের নাম প্রস্তাব করার যে আহ্বান জানিয়েছে, তা কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং তৃণমূলের মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

কেন এই উদ্যোগ রৌমারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
রৌমারী উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী খালগুলো এখানকার জীবনরেখা। বিগত কয়েক দশকে পলি জমে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, যা মূলত তিনটি প্রধান সমস্যার সৃষ্টি করছে:

কৃষি সেচের অভাব: শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে ভোগেন। খাল সংস্কার হলে প্রাকৃতিক পানির আধার তৈরি হবে।

জলাবদ্ধতা: বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ থাকায় ফসলি জমি ও জনবসতি তলিয়ে যায়, যা গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

পরিবেশের ভারসাম্য: জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঘটছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

জনগণের অংশগ্রহণই সাফল্যের চাবিকাঠি
উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সাধারণ মানুষের মতামত চেয়েছেন। কারণ, একটি এলাকার কোন খালটি পুনঃখনন করলে সবচেয়ে বেশি মানুষ উপকৃত হবে, তা ওই এলাকার কৃষিজীবী মানুষের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। এটি সরকারের “বটম-আপ অ্যাপ্রোচ” বা নিচ থেকে উপরে উন্নয়ন পরিকল্পনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আমাদের করণীয়
এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ, আপনারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এমন খালের নাম প্রস্তাব করুন যা:

বৃহত্তর এলাকার কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করবে।

সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খাল খননের এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে রৌমারীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে। প্রশাসনের এই আহবানে সাড়া দিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। সঠিক পরিকল্পনা আর জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি সমৃদ্ধ ও জলাবদ্ধতামুক্ত রৌমারী গড়তে।

আপনার মতামত জানান:
আপনার এলাকায় কোন খালটি খনন করা সবচেয়ে জরুরি? উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে অথবা সরাসরি লিখিতভাবে আপনার যুক্তিযুক্ত মতামত প্রদান করুন। আপনার একটি সঠিক তথ্য বদলে দিতে পারে হাজারো কৃষকের ভাগ্য।

কে.এম.জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি